সারা রাজ্যে যখন শাসক দলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ উঠচ্ছে, ঠিক সেই সময় দক্ষিণ দিনাজপুরে দেখা গেল উল্টো পুরাণ। এখানে অস্ত্র হাতে রাস্তায় দাপাতে দেখা গেল বিরোধী দলের কর্মীদের। তাদের হাতে বেধোরক মার খেলো শাসক দলের কর্মীরা। আদালতের নির্দেশ অনুসারে সোমবার মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার কুশমন্ডি থানার মহিপাল বাসস্ট্যান্ড এলাকা রূপ নিল রন ক্ষেত্রের। এদিন বিরোধী দলের দুষ্কৃতিদের দ্বারা শাসক দলের বেশ কিছু কর্মীরা আহত হয়। রানিং গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমুলের সদস্য কৃষ্ণ বসাক, কুশমন্ডি ব্লক তৃণমুলের কার্যকারী সভাপতি রীতেস জোয়াদ্দার সহ মোট ৪ জন গুরুতর জখম হয়। বর্তমানে তারা গঙ্গারামপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার জেরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ফলে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে স্থানীয় এলাকায়। তাদের সাথে সাথে ওই এলাকার প্রায় ৬-৭ জন কর্মীদের মারধোর করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
জানা গিয়েছে, তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় উত্তেজনার সৃষ্টি হলো কুশমন্ডিতে। কুশমন্ডি থানার মহিপাল এলাকায় আজ সকালে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিরোধীদের বিরুদ্ধে। দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় কুশমন্ডি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মিঠু জোয়াদ্দারের স্বামী তৃণমূলের রীতেশ জোয়াদ্দার গুরুত্বর জখম হন।
অন্যদিকে, স্থানীয় মহিপাল এলাকাতেও তৃণমূলের কর্মী তথা পঞ্চায়েত সদস্যের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এক্ষেত্রেও অভিযোগের তীর বিরোধীদের দিকেই। উদয় পঞ্চায়েতের সদস্য তৃণমূলের কৃষ্ণ বসাক মহিপালে অবস্থিত তাঁর দোকানে বসে ছিলেন। অভিযোগ সেই সময় একদল দুষ্কৃতী সেখানে হামলা চালিয়ে মারধর করে পালিয়ে যায়। হামলার কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে বিরোধীরা।
এবিষয়ে গুরুত্বর জখম তৃণমূল কর্মী রীতেশ জোয়াদ্দার জানান, তারা পার্টি অফিসে থাকাকালীন বিরোধী দলের দুষ্কৃতিরা হাঁসুয়া, লোহার রড নিয়ে তাদের উপর হামলা করে মারধোর করে।
এবিষয়ে এক তৃণমূল কর্মী শুভ্র জ্যোতি বিশ্বাস জানান, সোমবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় বিরোধীদের সাথে বচসা বাঁধে। যার ফলে বিরোধীরা তাদের দলের নেতা, কর্মীদের উপর হামলা চালায়, মারধোর করে। প্রশাসন যদি এই ঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতিদের গ্রেপ্তার না করে, তাহলে তারা প্রতিবাদী আন্দলনে নামবেন বলে জানান তিনি।